সাভারে অবৈধ চুল্লিতে কয়লার উৎপাদন

১১ ফেব্রুয়ারি ২০২২(বিবিনিউজ ):ছোট ছোট সাদা রঙের ঢিবি। দেখতে সুন্দর হলেও মাটি, ইট ও কাঠের গুঁড়া দিয়ে বানানো এসব ঢিবি মূলত বন উজারের মাধ্যম। স্থানীয়রা এটিকে চুলা বা চুল্লি বলেই চেনে। নির্বিচারে কেটে আনা মণের মণ গাছ এসব চুল্লিতে পুড়িয়ে বানানো হচ্ছে কয়লা। আর নির্গত ধুয়ার কুণ্ডলী দূষণ ছড়াচ্ছে পরিবেশে। পাশাপাশি হুমকিতে পড়ছে জনজীবন ও জীববৈচিত্র। এসব চুল্লির পরিবেশ দূষণে মারা যাচ্ছে অনেক পশু পাখি। অবৈধ এসব চুল্লির মালিকরা প্রভাবশালী হওয়ায় প্রতিবাদ করার সাহস পায় না কেউই।

বনের কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরির এমন প্রক্রিয়া অনেকের কাছে নতুন মনে হলেও এসব এলাকার বাসিন্দাদের কাছে পুরোনো। বছরের পর বছর এসব চুল্লিতে টনকে টন গাছ কেটে পোড়ানো হলেও প্রতিবাদ করার সাহস নেই কারও। প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় বনভূমি উজারকারীরা দিনের পর দিন হয়ে উঠছেন বেপরোয়া।

মাটি, ইট ও কাঠের গুঁড়া দিয়ে বানানো এসব ঢিবি মূলত বন উজারের মাধ্যম।
সাভার উপজেলার ভাকুর্তা ইউনিয়নের মোগড়াকান্দা এলাকায় গিয়ে প্রকাশ্যে অবাধে বনের কাঠ পোড়ানোর এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। মোগড়াকান্দা এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি আবু সিদ্দিক, দেলোয়ার ও ঈমান আলী নামের এই তিন ব্যক্তি সেখানে গড়ে তুলেছেন এসব অবৈধ কয়লা তৈরির চুল্লি।

গাছ পুড়িয়ে উৎপাদিত হচ্ছে কয়লা, নির্বিচারে বৃক্ষনিধন ও কয়লা উৎপাদনের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। দেখা যায় শত শত গাছের গুঁড়ি পাশে জ্বলছে বড় বড় চুল্লিতে গাছ পুড়িয়ে কয়লা তৈরীর কাজ।

ট্যানারির বিষাক্ত বর্জ্য ও মাছের আইশ শুকিয়ে তৈরি করছে মুরগি ও মাছের খাদ্য।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, লোকালয়ে, বসত বাড়ির সন্নিকটে এই সব কয়লা কারখানার, বিভিন্ন গাছ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে গাছের গুঁড়ি সংগ্রহ করে প্রতি চুল্লিতে ২২০-২৩০ মণ গাছের গুঁড়ি ৯ থেকে ১০ দিন পুড়িয়ে অর্ধ শতাধিক চুল্লিতে উৎপাদিত হচ্ছে এসব কয়লা। এসব অবৈধ চুল্লিতে গাছ পুড়িয়ে কয়লা তৈরির সময় নির্গত ধোঁয়ায় পরিবেশ দূষিতের পাশাপাশি নষ্ট হচ্ছে ফসলি জমি। এছাড়া শ্বাসকষ্টসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন আশপাশের লোকালয়ের বাসিন্দারা।

এতে বৃক্ষনিধন হচ্ছে সাথে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। ফলে পরতে হচ্ছে বিভিন্ন শ্বাস কষ্টসহ নানান স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে। আইনের ব্যবহার না থাকায় যত্রতত্র গড়ে উঠেছে এই সব অবৈধ কয়লা কারখানা, বৈধ কোনো কাগজ পত্র না থাকায় সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব, সৃষ্টি হচ্ছে পরিবেশের বিপর্যয়। এছাড়া সেখানে এইসব অবৈধ চুল্লির পাশাপাশি কয়েক ব্যক্তি ট্যানারির বিষাক্ত বর্জ্য ও মাছের আইশ শুকিয়ে তৈরি করছে মুরগি ও মাছের খাদ্য। এসব মুরগি ও মাছ খেয়ে নানা বয়সী মানুষ নানান রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন প্রতিনিয়ত।

এ ব্যাপারে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাজহারুল ইসলাম বলেন, দ্রুত সময়ে অবৈধ এসব কয়লা তৈরির চুল্লি ও মাছ ও মুরগির খাদ্য তৈরির কারখানা বন্ধ করে দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে

Related posts

Leave a Comment